উইন্ডোজ পিসির গতি (Speed) বাড়ানোর কার্যকরী উপায় – বিস্তারিত গাইড


 নতুন অবস্থায় একটি উইন্ডোজ পিসি বা ল্যাপটপ যতটা ফাস্ট কাজ করে, কিছুদিন ব্যবহারের পর তা ধীরে ধীরে স্লো হতে থাকে। এটি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সাধারণ এবং বিরক্তিকর একটি সমস্যা। বিশেষ করে যারা পিসিতে লোকাল সার্ভার (যেমন: Laragon) রান করে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করেন, PHP বা MySQL নিয়ে কোডিং করেন, কিংবা পুরোনো ছবি রিস্টোর বা ডিজাইনের মতো ভারী কাজ করেন, তাদের জন্য পিসি স্লো হয়ে যাওয়াটা চরম ভোগান্তির।

তবে কিছু সেটিংস পরিবর্তন এবং হার্ডওয়্যারের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উইন্ডোজ পিসির গতি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই উইন্ডোজ পিসি বা ল্যাপটপ ফাস্ট করার সবচেয়ে কার্যকরী ও বিস্তারিত উপায়গুলো।

১. স্টার্টআপ প্রোগ্রাম (Startup Programs) নিয়ন্ত্রণ করুন

পিসি অন হওয়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। এর ফলে পিসির বুট টাইম (চালু হওয়ার সময়) বেড়ে যায় এবং প্রচুর র‍্যাম (RAM) দখল হয়ে থাকে।


  • কীভাবে বন্ধ করবেন: কিবোর্ড থেকে Ctrl + Shift + Esc চেপে Task Manager ওপেন করুন। এরপর Startup ট্যাবে ক্লিক করুন। এখানে দেখতে পাবেন পিসি অন হওয়ার সাথে সাথে কোন অ্যাপগুলো চালু হয়। আপনার যে অ্যাপগুলো দরকার নেই (যেমন: Skype, uTorrent বা অন্য কোনো থার্ড-পার্টি টুল), সেগুলোর ওপর রাইট ক্লিক করে Disable করে দিন।

  • সতর্কতা: উইন্ডোজ সিকিউরিটি বা অডিও ড্রাইভারের মতো প্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইলগুলো ডিজেবল করবেন না।

২. টেম্পরারি ফাইল (Temporary Files) পরিষ্কার করুন

ইন্টারনেট ব্রাউজ করা বা সফটওয়্যার ব্যবহারের সময় উইন্ডোজ প্রচুর অস্থায়ী বা টেম্পরারি ফাইল তৈরি করে। এগুলো জমে স্টোরেজ ফুল হয়ে পিসি স্লো করে দেয়।

  • কীভাবে করবেন:

    1. কিবোর্ড থেকে Windows + R চেপে Run বক্স ওপেন করুন।

    2. বক্সে %temp% লিখে এন্টার দিন। একটি ফোল্ডার ওপেন হবে। Ctrl + A দিয়ে সব সিলেক্ট করে Shift + Delete চেপে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলুন।

    3. একইভাবে আবার Run ওপেন করে temp এবং prefetch লিখে ফাইলগুলো ডিলিট করুন। (পারমিশন চাইলে Continue-তে ক্লিক করবেন)।


৩. অপ্রয়োজনীয় ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট (Visual Effects) বন্ধ করুন

উইন্ডোজের মেনু অ্যানিমেশন, শ্যাডো বা ট্রান্সপারেন্ট ইফেক্টগুলো দেখতে সুন্দর হলেও এগুলো প্রসেসর এবং গ্রাফিক্সের ওপর চাপ ফেলে।

  • কীভাবে করবেন: উইন্ডোজের সার্চ বক্সে View advanced system settings লিখে সার্চ করুন। Advanced ট্যাব থেকে Performance-এর নিচে থাকা Settings-এ ক্লিক করুন। এবার "Adjust for best performance" সিলেক্ট করে Apply এবং OK করে দিন। এতে আপনার পিসির পারফরম্যান্স অনেক ফাস্ট হবে।

৪. স্টোরেজ সেন্স (Storage Sense) এবং ডিস্ক ক্লিনআপ

উইন্ডোজ ১০ ও ১১-তে 'Storage Sense' নামে চমৎকার একটি ফিচার আছে, যা ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ক্লিন করে।

  • চালু করার নিয়ম: Settings > System > Storage-এ গিয়ে Storage Sense অপশনটি অন (On) করে দিন।

  • পাশাপাশি সি-ড্রাইভের (C: Drive) ওপর রাইট ক্লিক করে Properties-এ যান এবং Disk Cleanup-এ ক্লিক করে ময়লা ফাইলগুলো পরিষ্কার করে নিন।

৫. পাওয়ার প্ল্যান (Power Plan) 'High Performance'-এ সেট করুন

ল্যাপটপ বা পিসিতে ডিফল্টভাবে 'Balanced' পাওয়ার প্ল্যান দেওয়া থাকে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে কিন্তু স্পিড কিছুটা কমিয়ে দেয়।

  • কীভাবে করবেন: Control Panel থেকে Power Options-এ যান। সেখানে High Performance বা Ultimate Performance (যদি থাকে) সিলেক্ট করে দিন। (ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এটি বেশি ব্যাটারি খরচ করবে, তবে স্পিড ভালো পাবেন)।

৬. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস (Background Apps) বন্ধ রাখুন

এমন অনেক অ্যাপ আছে যা আপনি ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে।

  • কীভাবে করবেন: উইন্ডোজের Settings > Privacy > Background apps-এ যান। সেখানে আপনার যে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার কোনো প্রয়োজন নেই, সেগুলো অফ (Off) করে দিন।

৭. হার্ডওয়্যার আপগ্রেড: এসএসডি (SSD) এবং র‍্যাম (RAM)

সফটওয়্যার সেটিংসের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে হার্ডওয়্যার আপগ্রেডে।

  • এসএসডি (SSD): আপনার পিসিতে যদি এখনো পুরোনো মেকানিক্যাল হার্ডডিস্ক (HDD) থাকে, তবে আজই একটি এসএসডি লাগিয়ে নিন। শুধু উইন্ডোজ ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করার জন্য ১২০ বা ২৪০ জিবির একটি SATA বা NVMe SSD লাগালেই পিসির স্পিড ৫-১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

  • র‍্যাম (RAM): মাল্টিটাস্কিং বা ভারী কোড এডিটরের জন্য বর্তমানে ৮ জিবি র‍্যাম থাকাটা প্রায় বাধ্যতামূলক। র‍্যাম কম থাকলে তা আপগ্রেড করে নিতে পারেন।

৮. ভাইরাস স্ক্যান এবং উইন্ডোজ আপডেট

অনেক সময় ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার বা ভাইরাসের কারণে পিসির স্পিড অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। উইন্ডোজের নিজস্ব Windows Security বা ভালো কোনো অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে পিসি ফুল স্ক্যান করুন। এছাড়াও, উইন্ডোজের রেগুলার আপডেটগুলো দিয়ে রাখুন, কারণ অনেক সময় আপডেটের মাধ্যমেই বিভিন্ন পারফরম্যান্স বাগ ফিক্স করা হয়।

এসকল টিপস প্রয়োগ করার পর আপনার পিসি রিস্টার্ট দিন। আশা করি আগের চেয়ে পিসির স্পিড অনেক গুণ বেড়ে যাবে!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন